বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রায় দুই মাস ধরে আটকে আছে ১৫০টি সুপারিবাহী ট্রাক। এসব ট্রাকে মোট ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সুপারি রয়েছে। ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে পণ্যের মান নির্ণয় ও কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
আটকে থাকা সুপারির ট্রাকগুলোকে প্রতিদিন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিটেনশন ফি দিতে হচ্ছে। ফলে শুধুমাত্র ট্রাকের ডেমারেজ বাবদ গত এক মাসে লোকসান হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুপারি। সুপারি উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। গুণগত মান ভাল হওয়ায় পাশ্ববর্তী দেশে বাংলাদেশের সুপারির বেশ চাহিদা রয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল বলেন, সুপারি রপ্তানি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা অমূলক। সংকট নিরসনের জন্য দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতের সুপারি আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২০২৪) এই পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় চার গুণ।
বেনাপোল বন্দরে সুপারি বাহী ট্রাক চালক মমিন জানান, ১ মাস ২৭ দিন ধরে তিনি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। তাঁর মত আরও দেড় শতাধিক ট্রাক ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা সুপারির বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট করে এসব ট্রাক দেরিতে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সুপারি উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সুপারি মূলত পানের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন থাকলেও ঔষধি গুণাগুণ, পশুখাদ্য, প্রাকৃতিক রঙ তৈরি, হস্তশিল্পসহ নানাবিধ কাজে ব্যবহার হয়।
বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুপারি। সুপারি রপ্তানি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে তা অমূলক। সংকট নিরসনের জন্য দুই দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।



