বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, টেলিকম খাতের নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এনইআইআরসহ টেলিকম খাতের সব ধরনের নীতি নতুন করে দেখা হবে এবং দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো ধারা রাখা হবে না।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব কাঠামো এখনই পর্যালোচনা করা প্রয়োজন, যাতে শেষ পর্যন্ত এর সুফল ভোক্তারা পান। আমীর খসরু বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের বাজারকে আরও ইন্টিগ্রেটেড হতে হবে। এতে মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আসবে, বাজারে বিকৃতি কমবে এবং ভোক্তারা বঞ্চিত হবেন না।
তাঁর মতে, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভোক্তা—সবার ক্ষতি হয়েছে। কোনো নীতি যদি বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা মাথায় রেখে তৈরি হয়, তাহলে তা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনে না।
আমীর খসরু বলেন, যেকোনো ব্যক্তি চাইলে ৫০০ হ্যান্ডসেটও আমদানি করতে পারবেন, শুধু রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এতে বাজারে সমান সুযোগ তৈরি হবে। নতুবা স্থানীয় অ্যাসেম্বলিংকারীরা একসময় একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করতে পারে, যার ফলে মোবাইল সেটের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমীর খসরু জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব পেলে টেলিকম নীতিমালা অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করা হবে। সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করে যেসব পরিবর্তন প্রয়োজন, তা আনা হবে। তাঁর মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতির জন্য সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিটি নাগরিক যেন সমানভাবে অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারেন, কারণ এতদিন তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
আমীর খসরুর এই বক্তব্য টেলিকম খাতের ভবিষ্যত নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, টেলিকম নীতি পুনর্বিবেচনা করা হলে দেশের অর্থনীতি ও বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।



