গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে এসে পৌঁছেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীরা এখন যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সহিংসতা কমে এলেও পুরোপুরি থামেনি। শনিবারও ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে যখন ইসরায়েলি সেনারা পুরোপুরি সরে যাবে, গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, মানুষ ঢুকতে-বের হতে পারবে।
গাজায় যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি এক প্রতিনিধি দল গাজা থেকে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত আনতে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে হামাস তাদের কাছে থাকা ২০ জীবিত জিম্মির সবাইকে এবং ২৭ জিম্মির মরদেহ ফেরত দিয়েছে। ইসরায়েল বলেছে, তারা শিগগিরই মিশর দিয়ে বের হতে গাজার রাফা সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেবে। আর শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পেলে রাফা দিয়ে গাজায় ঢুকতেও দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজায় একটি অন্তর্বর্তী টেকনোক্র্যাট ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে, যা দেখভালের দায়িত্বে থাকবে আন্তর্জাতিক একটি ‘শান্তি পর্ষদ’, আর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সহযোগিতা দেবে। তবে এই বাহিনীর গঠন ও দায়িত্বসীমা নিয়ে একমত হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলেই মনে হচ্ছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগোচ্ছে, তবে এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই আলোচনাকে সফল করার জন্য সকল পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।



