শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার সেতুর পাশে সার্বজনীন কবরস্থানের সামনে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হন।
নিহতরা হলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার মোহাম্মদপুর সদকি গ্রামের করিম মণ্ডলের ছেলে রিমন মণ্ডল (২২) ও সুমন মণ্ডল (২৫) এবং মোটরসাইকেল চালক আসিফ।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, টিভিএস ব্র্যান্ডের ১৬০ সিসি ক্ষমতার আরটিআর অ্যাপাচি মোটরসাইকেলটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঝিনাইদহ–ল–১১–৯২৫৭) নিয়ে তিন তরুণ ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।
মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন আসিফ, আর পেছনে বসা ছিলেন দুই ভাই—রিমন ও সুমন। চালক আসিফের মাথায় হেলমেট থাকলেও দুই ভাইয়ের কারও মাথায় হেলমেট ছিল না।
পুলিশ আরও জানায়, মোটরসাইকেলটি মাধবপুর সেতুর কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। হেলমেট না থাকায় দুই ভাই রিমন ও সুমনের মাথা থেঁতলে গিয়ে বিকৃত হয়ে যায়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিন জানান, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন তরুণকে মৃত অবস্থায় রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখি।
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ এখনও ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে পাচ্ছে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে যে মোটরসাইকেলটি অত্যন্ত গতিতে চলছিল। এছাড়াও রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।
এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তারা এই ঘটনার তদন্ত চাইছেন। পুলিশ জানিয়েছে যে তারা ঘটনার তদন্ত করছে এবং দোষীদের শাস্তি দেবে।
এই ঘটনা আমাদেরকে আবারও মোটরসাইকেল চালানোর সময় সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেয়। মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট পরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আমরা সকলেই সতর্কতা অবলম্বন করি এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।



