জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হবে।
প্রসিকিউশনের তথ্য মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমান টেলিফোনে কথোপকথন করেছিলেন। ওই ফোনালাপের একপর্যায়ে কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’ বলে তাঁরা মতপ্রকাশ করেন।
প্রসিকিউশন দাবি করেছে, তাঁদের এই বক্তব্যের পরই ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইসহ পরবর্তী সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁদের ওই কথোপকথন এসব হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ উসকানি হিসেবে কাজ করেছে এবং তাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত ছিলেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট পালানোর সময় সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে হত্যাসহ একাধিক মামলায় তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। আজ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এই মামলার শুনানি করবে। প্রসিকিউশনের তথ্য মতে, সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে প্রমাণ রয়েছে যা তাঁদের মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সালমান ও আনিসুলের আইনজীবীরা তাঁদের মুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। এই মামলার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
এই মামলার তদন্ত চলছে। প্রসিকিউশন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁরা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন।
এই মামলার শুনানি চলছে। প্রসিকিউশন ও সালমান ও আনিসুলের আইনজীবীরা তাঁদের যুক্তি পেশ করছেন। এই মামলার ফলাফল নিয়ে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন।



