সুদানের কালোগি শহরে মিলিশিয়া বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শতাধিক বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। এই হামলায় ১১৪ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৬ জন শিশু।
সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরএসএফ বাহিনী বৃহস্পতিবার কর্দোফানের কালোগিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ১১৪ জনকে হত্যা করেছে। এই হামলা সুদানি সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) মিলিশিয়া পরিচালিত চলমান গণহত্যা অভিযানের অংশ হিসেবে চালানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কালোগিতে প্রাথমিক আক্রমণটি একটি কিন্ডারগার্টেনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। ড্রোন থেকে রকেট নিক্ষেপ করে এ হামলার উদ্দেশ্য ছিল বিপুল সংখ্যক শিশুকে হত্যা করা।
ইউনিসেফ প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “স্কুলে শিশুদের হত্যা করা শিশুদের অধিকারের একটি ভয়াবহ লঙ্ঘন। সংঘাতের মূল্য কোনোদিনই শিশুদের দেওয়া উচিত নয়।”
উত্তর দারফুরে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ৩৯টি ট্রাকের বহরে হামলার পর এ মানবিক সহায়তার আহ্বান এল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, “এল ফাশেরের ভয়াবহ ঘটনার পর এত দ্রুত কর্দোফানে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখা সত্যিই হতবাক করার মত। আমরা কর্দোফানকে আরেকটি এল ফাশের হতে দিতে পারি না।”
দীর্ঘ অবরোধের পর ছয় সপ্তাহ আগে উত্তর দারফুরে এল ফাশেরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আরএসএফ। এরপর থেকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড শুরু করে এ মিলিশিয়া বাহিনী।
গার্ডিয়ান শুক্রবার লিখেছে, এল ফাশের এখন ‘বিরাট অপরাধস্থলে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে সড়কজুড়ে লাশের স্তূপ দেখা যাচ্ছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, বেসামরিক লোকজনকে হত্যার প্রমাণ ধ্বংস করতে আরএসএফ বহু স্থানে অগ্নিসংযোগ করেছে।
এই হামলার পর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিন্দা ও উদ্বেগের কণ্ঠস্বর উঠেছে। সবাই আশা করছে যে এই সংঘাত শীঘ্রই শেষ হবে এবং শান্তি পুনর্যাত্রা করবে।



