বাংলাদেশ রেলওয়ের কন্টেইনার পরিবহন থেকে রাজস্ব ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এটি রেলওয়ের একমাত্র লাভজনক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়। রেলওয়ের পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই খাতটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৭ কোটি টাকা আয় করেছে। শেষবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব এতটা কম ছিল, যা ছিল ৭৩ কোটি টাকা।
এটি চতুর্থ বছর ধরে রাজস্ব কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব ছিল ১৩৫ কোটি টাকা, যা ধরে ধরে কমে ৭৭ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। মালামাল পরিবহনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে রেলওয়ে ১৫.৬ লাখ টন মালামাল পরিবহন করেছে, যা গত অর্থবছরে অর্ধেকেরও কম, ৭.৩ লাখ টন।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে লোকোমোটিভের অভাবকে দায়ী করেছেন, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কন্টেইনার পরিষেবাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের চিফ মাস্টার নজরুল ইসলাম বলেছেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকার কমলাপুর আইসিডির মধ্যে প্রতিদিন চারটি জোড়া কন্টেইনার ট্রেন চলার কথা, কিন্তু বেশিরভাগ দিনেই দুটি জোড়া ট্রেনই চলে।
লোকোমোটিভের অভাবের কারণে অনেক ট্রেন সময়মতো চলতে পারছে না। গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড পরিদর্শনে দেখা গেছে যে তিনটি পূর্ণ লোডেড রেক ট্রেন লোকোমোটিভের অভাবে যাত্রার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিলম্বের পরেও, অনেক ব্যবহারকারী কন্টেইনার ট্রেনের উপর নির্ভর করে কারণ এতে মালামালের নিরাপত্তা এবং কমলাপুর আইসিডিতে কাস্টমস ও ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার সুবিধা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-ভিত্তিক একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোহাম্মদ নবি বলেছেন, বিলম্ব আরও বাড়ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কন্টেইনার পরিবহন থেকে রাজস্ব কমে যাওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে লোকোমোটিভের অভাব দূর করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে কন্টেইনার পরিবহন সেবা উন্নত করার জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কন্টেইনার পরিবহন থেকে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য সরকারকেও পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারকে রেলওয়ে খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে হবে। এছাড়াও, সরকারকে রেলওয়ে খাতের উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের কন্টেইনার পরিবহন থেকে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, সরকার এবং ব্যবহারকারীদের সমন্বয়ে কাজ করলে রেলওয়ে খাতের উন্নয়ন সম্ভব হবে। এই উন্নয়নের ফলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



