জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল নিয়ে সতর্ক করেছেন। জর্ডান সফরে গিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
মের্ৎস বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনও পদক্ষেপই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরায়েল যেন দখলকৃত পশ্চিম তীর নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার কোনও পদক্ষেপ না নেয়।
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের সময় চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, “পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আমাদের নজর থেকে সরিয়ে দেওয়া চলবে না। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ খোলা রাখতে হবে। তাই পশ্চিম তীরে কোনও ধরনের সংযুক্তিকরণ মেনে নেওয়া যায় না।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারে থাকা অতিকট্টর ও ডানপন্থী নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দখলকৃত পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। যদিও ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে এ অঞ্চলকে দাবি করে থাকে।
মের্ৎস বলেন, “আমরা এমন একটি নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করতে চাই, যেখানে ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি ও আরব প্রতিবেশীরা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করতে পারে।”
তিনি আবারও জার্মানির দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, শান্তি আলোচনা দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত।
এদিকে গাজা ইস্যুতে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর। মের্ৎস বলেন, “গাজায় দুই মাস ধরে যুদ্ধবিরতি ফলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল আছে, এতে আমরা স্বস্তি পাই। তবে এখন আমাদের দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশে সফল হতে হবে।”
তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে গাজার বেসামরিক জনগণের এখনও বিপজ্জনক মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত উন্নত করতে হবে। শীতের আগেই আরও বেশি মানবিক সহায়তা জরুরি।
পরে শনিবার দুপুরে লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত আকাবায় বৈঠক শেষে মের্ৎস ইসরায়েলে পৌঁছান। এদিনই সন্ধ্যায় পশ্চিম জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে তার বৈঠক হয়। রবিবার তার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করার কথা।
জার্মানির এই সতর্কবার্তা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সংঘাতের সমাধান খুঁজে বের করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জার্মানির এই সতর্কবার্তা ইসরায়েলের পশ্চিম তীর দখলের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধানে সাহায্য করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



