মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে লেনদেন করা এখন আমাদের দেশে একটি সাধারণ ব্যাপার। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশের বড় তিন অপারেটর—বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ছে। কিন্তু প্রতারণার ঘটনা বাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই উদ্বেগের মধ্যে থাকেন।
এমএফএস ব্যবহার করে লেনদেন করার সময় নিরাপত্তা বাড়াতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মানলে ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। প্রথমত, অ্যাপ পিন গোপন রাখা সবচেয়ে জরুরি ধাপ। সহজে অনুমান করা যায়, এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল স্টোর ছাড়া অন্য কোথাও থেকে এমএফএস অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না। নকল অ্যাপে তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ফোনে শক্ত নিরাপত্তা লক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্ক্রিন লক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আইডি ব্যবহার করলে ফোন হারালেও অ্যাপে প্রবেশ কঠিন হয়ে যায়। তাই ফোনে শক্তিশালী নিরাপত্তা লক দিন।
অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না। এসএমএস, ইনবক্স বা হোয়াটসঅ্যাপ লিংক দিয়ে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা এখন প্রতারকদের বড় কৌশল। কোনোটিই বিশ্বাস করবেন না।
ওটিপি কাউকে বলবেন না। লেনদেনের ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) কাউকে বলবেন না। ওটিপি হলো একবার ব্যবহারযোগ্য নিরাপত্তা কোড। ফোন করে কেউ যদি ওটিপি চায়, তাহলে বুঝবেন প্রতারণা।
লেনদেন সীমা ও চার্জ জেনে নিন। প্রতিদিনের লেনদেন সীমা ও ক্যাশ আউট চার্জ জেনে রাখলে অতিরিক্ত কাটা বা অযাচিত লেনদেন ঠেকানো সহজ হয়।
রসিদ মিলিয়ে দেখুন। টাকা পাঠানোর পরপরই রসিদ যাচাই করুন। ভুল নম্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হটলাইনে যোগাযোগ করুন।
জনপরিসর ওয়াই-ফাই এড়িয়ে চলুন। ওয়াই-ফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। জনপরিসর (যেমন খাবারের দোকান, হোটেল, স্টেশন ইত্যাদি) নেটওয়ার্কে তথ্য চুরি হওয়া খুবই সাধারণ। লেনদেন করবেন শুধু মোবাইল ডেটা বা নিরাপদ নেটওয়ার্কে।
এজেন্টের পয়েন্টে সতর্ক থাকুন। এজেন্ট পয়েন্টে লেনদেন করলে নিজের হাতে পিন দিন। ফোন কাউকে ধরিয়ে দেবেন না। কারণ, এটি প্রতারণার প্রধান কারণ।
এমএফএস ব্যবহার করে লেনদেন করার সময় এই সব বিষয় মাথায় রাখলে নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। তাই সবাইকে এই সব বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।



