আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করেন, তাহলে তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্তদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে হবে। তবে, তারা আপিল করলে আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই অপরাধে মামলার অন্য আসামি সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করে। রায়ে ৭৮ বছর বয়সী ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতেও সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিবার এবং শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আন্দোলনকারীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় রায়ে। রায় ঘোষণার পর দিন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিলের সুযোগ থাকবে না।
ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ নম্বর ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ধারার ৩ উপধারায় বলা হয়েছে, দণ্ড ও সাজা প্রদান অথবা খালাস অথবা কোনো সাজা দেওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
ভোটার তালিকা আইন, ১৩ (ঘ) ধারা ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তন সম্পর্কে বলে। এই আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এমন আশা করা যায়। তবে, একটা বিষয় নিশ্চিত, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে।



