বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ এক সেমিনারে একথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত ও আধুনিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ডেডিকেটেড বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা শীঘ্রই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত দেড় বছরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সাংবিধানিক স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিচার ব্যবস্থায় যে মৌলিক রূপান্তর সাধিত হয়েছে, তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এক নতুন প্রাতিষ্ঠানিক যুগে প্রবেশ করেছে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, খসড়া আইনটিতে বাণিজ্যিক বিরোধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, পর্যাপ্ত সংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান, হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক আপিল বেঞ্চ, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা, সীমিত মুলতবি, সারসংক্ষেপ বিচার, মামলার পরিসংখ্যানের স্বচ্ছ প্রকাশ এবং বিচারক–আইনজীবীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মতো আধুনিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিধান দ্রুত, দক্ষ ও স্বচ্ছ বাণিজ্যিক বিচার নিশ্চিত করবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা–ক্ষমতা বাড়াবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনো আইন কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। এজন্য বাণিজ্যিক আদালতসমূহের সফল পরিচালনার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব পক্ষ–পেশাজীবীর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্যিক বিরোধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্র্যাকটিস ডাইরেকশন ও নির্দেশিকা জারি করতে প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রধান স্টেফান লিলার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, কানাডার রাষ্ট্রদূত।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করে তুলবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা–ক্ষমতা বাড়াবে।
বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষে দ্রুত ও আধুনিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করে তুলবে।
বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করে তুলবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা–ক্ষমতা বাড়াবে।
বাংলাদেশ



