সরকার গত কয়েক মাসে ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে, কারণ রাজস্ব সংগ্রহ ব্যয়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ব্যাংক ঋণ গত সেপ্টেম্বরে ২৪.৪৫ শতাংশ বেড়ে টাকা ৫.৬৫ লাখ কোটি হয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধি ৬.২৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ, যা গত আগস্টের ৬.৩৫ শতাংশের থেকে কম। এটি ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতির বৃদ্ধি। বেসরকারি খাতে ঋণ গত সেপ্টেম্বরে টাকা ১৭.৫৬ লাখ কোটি হয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের অ্যাডিশনাল রিসার্চ ডাইরেক্টর তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে তাদের আর্থিক স্থান খুবই সংকীর্ণ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
গত অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহ টাকা ৩.৭ লাখ কোটি হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে টাকা ৯২,৬২৬ কোটি কম। এপ্রিল-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে রাজস্ব সংগ্রহ ২০ শতাংশ বেড়ে টাকা ৭৫,৫৫৪ কোটি হয়েছে।
খান বলেছেন, সরকারের কাছে সঞ্চয়পত্র থেকে তেমন একটা অর্থ নেই এবং বাইরে থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগও নেই। তাই সরকারকে ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে অর্থনীতিতে মন্দার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
সরকারকে অবশ্যই রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়াও, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
সরকারি ঋণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস দেশের অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। সরকারকে অবশ্যই এই সমস্যার সমাধান করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।



