কক্সবাজারের রামুতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে রাজারকুল ইউনিয়নের পূর্ব রাজারকুল সদ্ধমোর্দয় ব্রহ্মবিহার ও ধ্যান কেন্দ্রের ভাবনা কেন্দ্রের ভূমি নিয়ে বিরোধিতার এক পর্যায়ে ভবনের অংশবিশেষ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সমদেশ বড়ুয়া লুলু, রনি বড়ুয়া এবং রনি বড়ুয়া। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার দৃশ্য বুদ্ধ ভিক্ষু প্রজ্ঞা বিনয় থের ফেসবুক লাইভে প্রচার করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই রামু থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, ইউএনও, এসিল্যান্ড, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করে।
এ ঘটনায় প্রজ্ঞা বিনয় ভিক্ষু রামু থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দাখিল করা করেন। পুলিশ তাত্ক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
রামু থানার পরিদর্শক মো. ফরিদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঘটনার আইনগত তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে এবং কোনো ধরনের উস্কানি বা অপপ্রচার যেন ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, আদালতের স্থিতি বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে বিহারে প্রবেশ করে ভিক্ষুদের মারধর করে, বিবস্ত্র করার চেষ্টা চালায় এবং দুটি বৌদ্ধমূর্তি, নির্মাণাধীন বিহার, চেয়ার-টেবিল ও সাজসজ্জার সামগ্রী ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এছাড়া দানবক্স থেকে ১৫ হাজার টাকা লুটের অভিযোগও রয়েছে। হামলায় বিহারের পরিচালক প্রজ্ঞা তাপস ভিক্ষু আহত হন এবং তাকে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পরবর্তী আদালত পরিস্থিতি জানানো হবে। সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।



