কুড়িগ্রামের একটি ছাত্রাবাসে এক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের ভোকেশনাল মোড় এলাকায় অর্ণব ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ছাত্রের নাম মৃত্যুঞ্জয় রায়। তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ পর্বের ছাত্র ছিলেন। বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন মৃত্যুঞ্জয়। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এ বিয়ে মেনে নেয়নি। নিহতের শাশুড়ি আইনজীবী হওয়ায় বিষয়টি পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় গড়ায়। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে তালাকের মাধ্যমে ফেরত নেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মৃত্যুঞ্জয়।
অর্ণব ছাত্রাবাসের কন্ট্রোলার জানান, পলিটেকনিকের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার অধিকাংশ ছাত্র বাড়ি চলে যায়। ছাত্রাবাসে কেবল তিনজন ছিল। দুপুরে আরেক ছাত্র নাদিম ওয়াজেদ তাকে খাওয়ার জন্য ডাকলেও সাড়া না পেয়ে ঘুমিয়ে আছে ভেবে ফিরে আসে। পরে তিনি প্রশিক্ষণ শেষে এসে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। একপর্যায়ে জানালা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এরপর ছাত্রাবাসের মালিক ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা খুলে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
কুড়িগ্রাম থানার উপ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। তারা মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে, পুলিশ মৃত্যুঞ্জয়ের আত্মহত্যার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তারা জানায়, মৃত্যুঞ্জয়ের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে। এগুলো বিশ্লেষণ করে আত্মহত্যার কারণ জানার চেষ্টা করা হবে।
এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের শিক্ষার্থী ও ছাত্রসমাজ শোকস্তব্ধ। তারা মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। একই সাথে, তারা আত্মহত্যা রোধে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছে।



