বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের বিকাশের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা। এই মেলার মাধ্যমে দেশীয় পণ্যগুলোকে বাজারে পরিচিতি দেওয়া, ব্যবসায়ীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং সুবিধা প্রদান এবং উদ্যোক্তাদের সরাসরি ভোক্তা, অর্থদাতা ও নীতিনির্ধারকদের সাথে যুক্ত করা হবে।
এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই আট দিনব্যাপী মেলাটি ঢাকার শের-এ-বাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এই মেলার মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় পণ্যগুলোকে বাজারে পরিচিতি দেওয়া এবং এসএমইগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বৃদ্ধি লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জ্ঞান ও অর্থায়নের সুযোগ সরবরাহ করা।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অনেক এসএমই উদ্যোক্তা উচ্চমানের পণ্য উৎপাদন করার পরেও বাজারজাতকরণে সমস্যার সম্মুখীন হন। এই মেলা এই প্রতিবন্ধকতা দূর করার একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
এবারের মেলায় ৩৫০টিরও বেশি এসএমই অংশগ্রহণ করবে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ মহিলা উদ্যোক্তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। এসএমইগুলো বিভিন্ন খাতে অবদান রাখবে, যার মধ্যে রয়েছে পোশাক, হস্তশিল্প, চামড়া, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবা, হালকা প্রকৌশল ও গাছপালা পণ্য।
মেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই মেলার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা হবে। প্রতিদিন ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের মধ্যে মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৩০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে। এছাড়াও, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি ঋণ আবেদন গ্রহণ করা হবে।
জ্ঞান বিনিময় বৃদ্ধির লক্ষ্যে, ৮ থেকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এই সেমিনারগুলোতে রপ্তানি বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন, হালাল শংসাপত্র, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকার, মিশ্র অর্থায়ন ও দক্ষতা বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। এই সেমিনারগুলোর লক্ষ্য হলো উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রক, কারিগরি ও অর্থায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে অবহিত করা।
এই মেলা বাংলাদেশের এসএমই খাতের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই মেলার মাধ্যমে দেশীয় পণ্যগুলোকে বাজারে পরিচিতি দেওয়া এবং এসএমইগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বৃদ্ধি লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, জ্ঞান ও অর্থায়নের সুযোগ সরবরাহ করা হবে।



