মাদারীপুরের রাজৈর ও শিবচরের দুই যুবক ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন। তারা ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পারি দিতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম পশ্চিম তেলিকান্দির ছামির শেখ নিখোঁজদের একজন। ১৫ নভেম্বর লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবির পর থেকেই তার কোনো সন্ধান নেই। একই গ্রুপে থাকা লিবিয়া থেকে ফেরা জামাল সর্দার জানান, সাগর পারি দেওয়ার সময়ই ছামির নিখোঁজ হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গোপালগঞ্জের ছাগলছিড়া এলাকার দালাল ইলিয়াসের মাধ্যমে ১৯ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে ১৬ লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর ছামিরকে লিবিয়া পাঠানো হয়। ‘গেম’ দেওয়ার আগের দিন ছামির তার মাকে শেষবার বলেছিলেন, “মা, ৩০ ঘণ্টা যোগাযোগ করতে পারব না। দোয়া করবেন।” এরপর থেকে ফোন বন্ধ। ছেলের খোঁজ না পেয়ে বিধ্বস্ত মা সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ফেরত আনেন, না হয় পৌঁছে দেন। আমার ছেলের কোনো খোঁজ নাই।”
শিবচরের বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের নিশাত মাতুব্বরসহ অন্তত তিন যুবক একই নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানায় স্থানীয়রা। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বাঁশকান্দির ফারহান খান রোমান, শেখপুরের মুন্না এবং শিবচর পৌরসভার আরও একজন যুবক।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দালাল কুদ্দুস পরিবারগুলোকে জানান যে ইতালি যাওয়ার পথে যাত্রীবোঝাই ট্রলারটি ডুবে গেছে এবং বেশির ভাগই নিখোঁজ। শনিবার সকালে সরেজমিনে গেলে নিশাতের বাড়িতে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। ৬ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে নির্বাকভাবে বসে আছেন তার স্ত্রী মেহেনাজ। আর মা সাবিনা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
পরিবার জানায়, স্থানীয় কুদ্দুসের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকায় অক্টোবরের শুরুতে মিশর হয়ে লিবিয়া যান নিশাত। ১০ নভেম্বর ‘গেম’ দেওয়ার পর থেকেই তার ফোন বন্ধ। এক মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর বৃহস্পতিবার আসে নৌকাডুবির দুঃসংবাদ।
এই ঘটনায় দুই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার ও স্থানীয়রা নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়ার জন্য আশাবাদী। এদিকে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের পরিবার কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চাইছে। তারা চাইছে কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের খোঁজ বের করতে সহায়তা করুক। এদিকে স্থানীয়রা নিখোঁজদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য এগিয়ে এসেছে। তারা চাইছে নিখোঁজদের খোঁজ বের করা হোক এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা করা হোক।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে যে তারা নিখোঁজদের খোঁজ বের করার জন্য সকল ধরনের সহায়তা করবে। এদিকে নিখোঁজদের পরিবার আশাবাদী যে তাদের স্বজনরা ফিরে আসবে। তারা চাইছে কর্তৃপক্ষ তাদের স্বজনদের খোঁজ বের করতে সহায়তা করুক।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ শোকস্তব্ধ। তারা চাইছে নিখোঁজদের খোঁজ বের করা হোক এবং তাদের পরিবারকে



