দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কমলপুর ইউনিয়নের দানিহারি গ্রামে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির প্রধান কাজ হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করা এবং মাদকসেবীদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
কমলপুর ইউনিয়নের ওই এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ পদক্ষেপ গ্রহণ করার ফলে বর্তমানে ওই এলাকায় মাদকসেবীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারি পেশাও ছেড়েছেন। এলাকাবাসী দুজন মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতেও তুলে দিয়েছিলেন।
মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান বলেন, ‘আগের চাইতে অনেক ভালো আছি আমরা। মসজিদের ইমামসহ এলাকার গণ্যমান্য মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে এলাকায় মাদকের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। তবে আবারও যদি কেউ এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে, আইনের সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি আমরা তাকে সামাজিকভাবেও বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
কমলপুর দানিহারী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা দেখভালের দায়িত্বে আছেন কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগেও এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এক যুবক। এখন এলাকায় তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছেন।’
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, গ্রামের রাস্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। সীমান্তবর্তী এলাকাটি মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে।
মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগে এলাকায় মাদকসেবীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং এলাকাটি মাদকমুক্ত হবে।
মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা এলাকায় মাদকসেবীদের সনাক্ত করে তাদেরকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছেন। এছাড়াও তারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
কমলপুর দানিহারী এলাকায় মাদক নির্মূল কমিটির উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগের ফলে এলাকায় মাদকসেবীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। আশা করা যায়, এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং এলাকাটি মাদকমুক্ত হবে।



