22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিচার বিভাগে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক যুগের সূচনা

বিচার বিভাগে নতুন প্রাতিষ্ঠানিক যুগের সূচনা

বাংলাদেশের বিচার বিভাগ একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক যুগে প্রবেশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি বলেছেন, গত দেড় বছরে বিচার বিভাগে যে মৌলিক রূপান্তর সাধিত হয়েছে, তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে ‘অপারেশনালাইজিং কমার্শিয়াল কোর্ট’ শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিটি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বরে তার ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে বহু দিনের দ্বৈত প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছে।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এর ফলে বিচার বিভাগ এখন নিজস্বভাবে পদসৃজন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন, নীতিমালা প্রণয়নসহ বিচার সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ধারা হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত ও আধুনিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ডেডিকেটেড বা বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার আহ্বান করে এসেছিল, যা শিগগিরই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, খসড়া আইনটিতে বাণিজ্যিক বিরোধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, পর্যাপ্ত সংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান, হাই কোর্ট বিভাগে পৃথক আপিল বেঞ্চ, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা, সীমিত মুলতবি, সারসংক্ষেপ বিচার, মামলার পরিসংখ্যানের স্বচ্ছ প্রকাশ এবং বিচারক–আইনজীবীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মতো আধুনিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে সুইডেন অ্যাম্বাসির হেড অব পলিটিকস, ট্রেড অ্যান্ড কমিউনিকেশন অলি লুন্ডিন, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিন্টন পুকি, বাংলাদেশে কানাডার রাষ্ট্রদূত অজিত সিং, বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

এই উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আরও স্বাধীন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি দেশের আইনি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করবে এবং নাগরিকদের আইনি সহায়তা প্রদানে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের এই নতুন প্রাতিষ্ঠানিক যুগের সূচনা দেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে। এটি দেশের আইনি ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা ও কার্যকর করবে এবং নাগরিকদের আইনি সহায়তা প্রদানে সহায়তা করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments