সারা হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী, সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় প্রশ্ন তুলেছেন যে পুরুনো হাতিয়ার ব্যবহার করে কি নতুন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি বলেন, যারা নতুন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি করছেন, তারা কি পুরোনো সব হাতিয়ার ব্যবহার করেই এই কাজ করবেন?
সারা হোসেন এই প্রশ্ন তুলেছেন রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘স্যাটায়ার, মিম ও কার্টুন: মতপ্রকাশ নাকি মর্যাদাহানি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায়। এই সভা আয়োজন করেছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘নাগরিক কোয়ালিশন’ ও ফান ম্যাগাজিন ‘ই-আরকি’।
সারা হোসেন বলেন, বিগত সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বিষয়টি টেনে তোলা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল যে কেউ যদি কোনোভাবে সংবিধান পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে দেখা হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কথা বলার জন্য শাস্তির পাওয়ার সেই চর্চা থেকে সবাই বের হয়ে আসতে চাইছে।
সারা হোসেন বলেন, মিম ও কার্টুনের গুরুত্ব হলো তামাশার মাধ্যমে ক্ষমতাশালীদের প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। এখনকার সময়ে এগুলো সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করে। সে জন্য এসবের সামাজিক আর রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। এগুলোর একটি স্পেস রাখা দরকার। সেই স্পেসটাকেই মামলা দিয়ে সংকীর্ণ করার চেষ্টা হচ্ছে।
অনলাইনে ‘অপপ্রচার’ ও নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও আইডির বিরুদ্ধে গত ২ ডিসেম্বর মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। মামলা করার পর তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা সাইবার সাপোর্ট ইউনিটের সঙ্গে ফলপ্রসূ মিটিং করেছি। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। একই সঙ্গে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আজকে আমরা এখানে লিখিতভাবে আমাদের অভিযোগগুলো দিয়েছি।’
এ মামলা নিয়ে আজকের সভায় প্রশ্ন তোলেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, মামলা করার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাওয়া হয়েছে। ডিএমপিতে যাওয়া হয়েছে। শুনেছি ডিবিতেও যাওয়া হয়েছে। এগুলো কি মামলা করার আগে করা উচিত ছিল?
সারা হোসেনের প্রশ্ন এবং মামলার ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ কী হবে তা নিয়ে সবাই আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছে।



