মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ প্রযোজনা কোম্পানি ওয়ার্নার ব্রোস কিনে নিচ্ছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স। এই সংবাদে হলিউডের অভিনেতা ও কলাকুশলীরা চিন্তিত। তাদের আশঙ্কা, এটা একধরনের অভ্যুত্থান। অনেক কর্মী কাজ হারাবেন। কলাকুশলী ও শিল্পীদের আয়রোজগার কমে যাবে।
নেটফ্লিক্স একসময় একটা স্টার্টআপ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন তাদের প্রভাব–প্রতিপত্তি এত বেড়ে গেছে যে ওয়ার্নার অ্যান্ড ব্রোসের মতো প্রযোজনা কোম্পানি ৭২ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিচ্ছে তারা। এই পরিস্থিতিতে হলিউডের স্ক্রিপ্ট লেখকদের সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ওয়ার্নার ব্রোস বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, প্যারামাউন্ট বা কমকাস্টের মতো প্রযোজনা সংস্থা তা কিনে নেবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে নেটফ্লিক্স তা কিনে নিল। এ নিয়ে হলিউডের কর্মীরা রীতিমতো উষ্মা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ওয়ার্নার ব্রোসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড জাসলাভ এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন।
বিষয়টি এমন নয় যে এ ঘটনার আগে হলিউড ভালো অবস্থায় ছিল। কয়েক বছর ধরেই হলিউডের লেখক ও কলাকুশলীরা নানা ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম করছেন। ২০১০-এর দশকেই স্টুডিওর সংখ্যা কমতে থাকে। ফলে চলচ্চিত্রের সংখ্যা কমতে থাকে। এরপর কোভিড মহামারির সময় কাজ তো কয়েক মাস বন্ধই ছিল। এ কারণে অনেক স্টুডিও তখন কাজ বাতিল বা স্থগিত করেছে। বিধিনিষেধের সময় সিনেমা হলগুলো রীতিমতো অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যায়। এখনো তাদের দর্শকসংখ্যা প্রাক্-কোভিড পর্যায়ে পৌঁছেনি। সেই সঙ্গে খরচ কমাতে ও কর ছাড় পেতে অনেক সিনেমা ও টিভি সিরিজের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে চলে গেছে। সবকিছুর শানে নজুল হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন অর্থনীতির সংকোচন হয়েছে।
অনেক মানুষের আশঙ্কা, ওয়র্নার ব্রোস নেটফ্লিক্সের হাতে গেলে মানুষের কাজের সুযোগ কমে যাবে। এই ক্রয় হলিউডের জন্য একটা বড় পরিবর্তন। এই পরিবর্তন হলিউডের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে। এই পরিবর্তনের ফলে হলিউডের কর্মীদের জীবনমানের অবনতি ঘটবে। এই পরিবর্তন হলিউডের জন্য একটা নতুন যুগের সূচনা করবে।



