রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে শীতের গরম কাপড় বিক্রি জমে ওঠেনি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে শীতের তীব্রতা কম। সে কারণে খুচরা পর্যায়ে গরম পোশাকের চাহিদা কম। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি বেচাকেনাতেও।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার এখন পর্যন্ত শীতের তীব্রতা কম। তাই বেচাকেনায় একধরনের মন্দা ভাব চলছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। আবার নির্বাচনের আগে শীতের পোশাক বিতরণ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত এ বছর শীতের পোশাকের ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা বিক্রেতাদের।
রাজধানীর বঙ্গবাজার ও গুলিস্তানে শীতের পোশাকের একাধিক বড় পাইকারি বাজার আছে। পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর ও নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় আছে আলাদা পাইকারি বাজার। এ ছাড়া মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরেও শীতের পোশাকের বাজার আছে। এ ছাড়া আছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড—সব মিলিয়ে শীতকেন্দ্রিক পোশাকের মৌসুমি ব্যবসা এক হাজার কোটি টাকার ওপরে।
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত পারিজাত মার্কেটে আছে দুই শতাধিক কম্বল বিক্রির দোকান। এই ব্যবসায়ীদের সংগঠন বৃহত্তম কম্বল সমিতির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত বেচাকেনার পরিস্থিতি আশানুরূপ নয়। শীত কম থাকায় বেচাকেনায় গতি নেই। আবার জাতীয় নির্বাচনের আগে সাধারণত বেচাকেনা বেড়ে যায়। কিন্তু এবার সে আমেজ এখনো শুরু হয়নি।
রাজধানীর বঙ্গবাজার ও গুলিস্তানে কয়েক শ দোকানে শীতের পোশাক বিক্রি হয়। বঙ্গবাজার–সংলগ্ন এনেক্সকো টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় কম্বল বিক্রি করে—এমন দোকান আছে ৪৫টি। এ ছাড়া ওই ভবনেরই পঞ্চম ও চতুর্থ তলায় আছে জ্যাকেট, ওভারকোট, সোয়েটার, জুতা ও চাদর বিক্রির শতাধিক দোকান। এনেক্সকো টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় কম্বল বিক্রির দোকান ফয়সাল গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মাহবুব আলম বলেন, এবার শীত দেরিতে আসছে। সে জন্য গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেচাকেনায় গতি কম। বর্তমানে দৈনিক ১ থেকে ২ হাজার পিস কম্বল বিক্রি হচ্ছে।
শীতের পোশাকের মৌসুমি ব্যবসা মোটামুটি তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের। এই মৌসুম শুরু হয় অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে, চলে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত। তবে শীতের তীব্রতার কারণে এই সময় কমবেশি হতে পারে। গত সপ্তাহে রাজধানীর একাধিক পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা কম্বল, জ্যাকেট, চাদর, সোয়েটারসহ শীতের বিভিন্ন পোশাক দোকানে তুলেছেন। কিন্তু ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
শেষ পর্যন্ত, শীতের পোশাকের ব্যবসা কখন জমে উঠবে তা নিয়ে বিক্রেতারা অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা আশা করছেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বেচাকেনায় গতি আসবে। আর নির্বাচনের আগে শীতের পোশাক বিতরণ বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত এ বছর শীতের পোশাকের ভালো ব্যবসা হবে বলে তারা আশা করছেন।



