লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী হিজবুল্লাহর প্রধান শেখ নাঈম কাসেম সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোনও শক্তিই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারবে না। তিনি এটাও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার যে পরিকল্পনা করেছে, তা কোনওভাবেই সফল হবে না।
শেখ নাঈম কাসেম শুক্রবার সশস্ত্র সংগঠনটির নিহত আলেমদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নিহত এসব আলেমদের রক্ত আমাদের জীবনের আলো, আর তাদের কলমের মশি আমাদের পথ দেখায়।
নাঈম কাসেম বলেন, লেবাননসহ বিশ্বের অনেককেই হিজবুল্লাহর বিকাশ বিস্মিত করেছে। শত্রুরা চেয়েছিল হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে, কারণ হিজবুল্লাহ দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতীক। তার মতে, হিজবুল্লাহ জাতীয়ভাবে একত্রিত করার শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।
লেবাননকে গড়ে তোলা ও মুক্ত করার কাজে দলটি যেকোনও পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী আগ্রাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন প্রতিরোধে সবধরনের উপায় গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার নেই। নাঈম কাসেম জোর দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহ লেবাননকে রক্ষা করবে এবং কখনও আত্মসমর্পণ করবে না।
হিজবুল্লাহপ্রধান বলেন, হিজবুল্লাহ লেবাননের প্রতিরোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কাজ করেছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গেও বিশেষ করে ২০০৬ সালে লেবাননের স্বার্থে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে দলটি।
এই ঘটনার পর থেকে লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। হিজবুল্লাহর এই বিবৃতি লেবাননের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন মোড় নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, লেবাননের সরকার এই বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় কোনও অবস্থান নিয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে, লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহর এই বিবৃতি লেবাননের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করবে।
এই পরিস্থিতিতে লেবাননের জনগণ আশঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। লেবাননের রাজনৈতিক নেতারা এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য একসঙ্গে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। তারা লেবাননের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য সহায়তা প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। কিন্তু, এই সংকট সমাধানের জন্য কোনও স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে লেবাননের জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার আশায় রয়েছে। তারা আশা করছে, লেবাননের রাজনৈতিক নেতারা একসঙ্গে আসবেন এবং দেশটির সংকট সমাধান করবেন।
এই ঘটনার পর থেকে লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু, একটা বিষয় নিশ্চিত, লেবাননের জনগণ শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপেক্ষা করছে।
লেবাননের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের



