বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতে মিরপুর পিচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। এক প্রজন্মের খেলোয়াড়দের খেলার ধরন এই ধীরগতির পিচের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। লিটন দাস এবং নাজমুল হোসেন শান্তোর মতো খেলোয়াড়রা ভালো পিচের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ের অভিযোগ শোনেন। তারা ম্যাচ পিচ ছাড়াও অনুশীলন পিচের অবস্থা নিয়ে অসন্তুষ্ট। মিরপুর পিচ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। ২০০৬ সালে শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম উদ্বোধনের পর থেকে ২১৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি একটি স্টেডিয়ামে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
বিসিবি সূত্র মতে, মাটির অসামঞ্জস্যতা পিচ তৈরির সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য হাইব্রিড পিচ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পিচগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ এবং তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী। এছাড়াও এগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায় এবং স্থাপন করা সহজ। হাইব্রিড পিচের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে প্রাকৃতিক ঘাস ব্যবহার করা হয়। এই পিচ তৈরির প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক ঘাসের সাথে তন্তু জড়িত থাকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই পিচ থেকে ধারাবাহিক বাউন্স পাওয়া যায়।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিশ্চিত করেছেন যে হাইব্রিড পিচ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, খরচ একটি বড় সমস্যা। হাইব্রিড পিচের দাম প্রায় ৩০,০০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। বুলবুল মনে করেন যে শ্রমিকদের মজুরি কম হওয়ায় তাদের এই খরচে হাইব্রিড পিচ কেনা উচিত কিনা তা ভাবতে হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হাইব্রিড পিচ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিলে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এই পিচগুলো খেলোয়াড়দের জন্য আরও ভালো খেলার অভিজ্ঞতা প্রদান করবে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও উন্নত করবে।



