বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার মধ্যেই দলটি নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজে ফিরে এসেছে। প্রথম ধাপে ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার এক মাস পর গত বৃহস্পতিবার আরও ৩৬টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি।
এমন এক সময় দলটি দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী ঘোষণা করল, যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বেশ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা শুরু থেকেই নির্বাচন চেয়ে আসছি। আমরা নির্বাচন করব, নির্বাচন করতেই হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। সে লক্ষ্যে ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি আসনগুলোতেও ঠিক সময়ে আমরা প্রার্থী দিয়ে দেব।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদসহ অনেক প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় কয়েক দিন ধরে জনসংযোগ করছেন। মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের সিদ্ধেশ্বরী, ইস্কাটন ও শাহজাহানপুর এলাকায়, গয়েশ্বর রায় ঢাকা-৩ আসনের চুনকুটিয়া, তেঘরিয়া ও জিঞ্জিরায়, ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনের ধূপখোলা, গোপীবাগ ও সূত্রাপুরের কলতাবাজারে জনসংযোগ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ গত মঙ্গলবার থেকে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে জনসংযোগে রয়েছেন। তিনি গতকাল পেকুয়া উপজেলার মাতামুহুরী এলাকায় দিনভর গণসংযোগ করেন। আগামীকাল রোববার তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে যাঁরা নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন, তাঁরা ‘ধানের শীষ প্রতীকে’ ভোট চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার মধ্যেই দলটি নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজে ফিরে আসার এই সিদ্ধান্ত দলের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক কাজে ফিরে আসার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি তার রাজনৈতিক প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তার প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিশা নির্ধারণ করছে।



