চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের এক দিনমজুর পরিবারের দুই মেয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন। আবদুল হান্নান নামের এই দিনমজুরের পরিবারে তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বিসিএস ক্যাডার হওয়া দুই মেয়ে হলেন সারমিন খাতুন ও খাদিজা খাতুন।
আবদুল হান্নানের পরিবার খুব অল্প আয়ের মধ্যে চলে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা পাঁচ কাঠা জমি ও টিনের ছাপরার একটি ছোট ঘরে বসবাস করে। এই পরিবারের মেয়েরা পড়াশোনায় খুব ভালো। সারমিন খাতুন ২০০৮ সালে বালিয়াডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছেন। খাদিজা খাতুনও একই বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে জিপিএ–৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেছেন।
সারমিন খাতুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তি তাঁর পড়াশোনার জন্য অনেক সাহায্য করেছে। খাদিজা খাতুনও একই বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। দুই বোন একসাথে পড়াশোনা করেছেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন।
সারমিন খাতুন ৪৪তম বিসিএসে পশুসম্পদ ক্যাডার পেয়েছেন। খাদিজা খাতুন ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের এই সাফল্যে পরিবারের সবাই খুব আনন্দিত। আবদুল হান্নান বলেছেন, ‘আমি কষ্ট করেছি, আমার মেয়েরা আমার কষ্টের মর্ম বুঝেছে। তারা সফল হয়েছে, আমাকে সম্মানের জাগাতে গেছে।’
এই দুই মেয়ের সাফল্য তাঁদের পরিবার ও গ্রামের জন্য এক অনুপ্রেরণা। তাঁরা দেখিয়েছেন যে, কঠিন পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে পড়াশোনা করলে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তাঁদের এই সাফল্য আমাদের সবার জন্য এক উদাহরণ।
শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজন নিষ্ঠা, ধৈর্য ও কঠিন পরিশ্রম। সারমিন খাতুন ও খাদিজা খাতুনের সাফল্য আমাদের সবার জন্য এক অনুপ্রেরণা। আমরা সবাই তাঁদের মতো করে পড়াশোনা করার চেষ্টা করতে পারি। আমাদের প্রত্যেকের উচিত তাঁদের মতো করে কঠিন পরিশ্রম করা ও সফলতা অর্জন করা।



