ভারত সরকার ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ৪ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ যুগ্ম দস্তখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ জানান।
ভারতের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাত্পর্যপূর্ণ ছিল। নিজেদের পরাজয় ঠেকাতে পাক হানাদার বাহিনী যুদ্ধের মাঠে এবং পাকিস্তান সরকার কূটনৈতিক পর্যায়ে মরণকামড় দিচ্ছিল। কিন্তু যুদ্ধের মাঠের মতো কূটনৈতিক পর্যায়েও একের পর এক পরাজয় ঘিরে ফেলে পাক জান্তাদের।
ভারতের স্বীকৃতি মুক্তিসেনাদের মনোবল বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। নতুন রাষ্ট্র তথা জন্মভূমি আদায়ের অভিলাষে শহর আর গ্রামের বাড়িঘর, মুক্তিসেনা ক্যাম্পগুলোতে উল্লাস বয়ে যায়। রক্তাক্ত ও নিষ্ঠুর একটি যুদ্ধের সূচনাকারী পাকিস্তানি হানাদারদের বিমান-তত্পরতা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর হিসাব মতে, ১২ ঘণ্টায় ২৩০ বার আক্রমণ চালানো হয় পাক ঘাঁটিগুলোতে। তেজগাঁও ও কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে ৫০ টনের মতো বোমা ফেলা হয়। বলতে গেলে পুরো আকাশ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের দখলে চলে আসে। স্বাধীন হয় বাংলার আকাশ।
শুধু আকাশেই নয়, স্থলেও মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ঢাকার দিকে এগিয়ে চলে বীরদর্পে। নিয়াজিসহ পাক সমরনায়করা বুঝলেন, মিত্রবাহিনী ঢাকার দিকে এগোবেই। নিয়াজি তাই অন্য পাক সমরনায়কদের সঙ্গে পরামর্শ করে সেদিনই সর্বত্র হুকুম পাঠিয়ে দিলেন—‘পুল ব্যাক’। নিয়াজির এমন নির্দেশ পেয়ে গোটা বাংলাদেশের পাক হানাদার বাহিনী মনোবল একেবারেই ভেঙে পড়ে।
ভারতের স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে চিহ্নিত হয়। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সমর্থনের একটি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সমর্থন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, যা বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্য করেছিল।



