পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, ঢাকা, বেইজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যকার সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ এবং এর বাইরেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এক পক্ষই সব সুবিধা পাবে— আমরা এমন দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধী। আমরা বরাবরই জোর দিয়ে বলেছি, মুখোমুখি দাঁড়ানোর চেয়ে পারস্পরিক সহযোগিতাটা জরুরি।
পাকিস্তান এমন সময় এ ধরনের জোটের দিকে মনোযোগ দিয়েছে, যখন ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির বিরোধিতায় দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জোট— সার্ক প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। গত জুনে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেন চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনীতিকরা। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাপনের মান উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
তিন দেশের কূটনীতিকরা ওই সময় বলেন, তাদের এ উদ্যোগ ‘তৃতীয় কোনো পক্ষকে’ লক্ষ্য করে নয়। ইসহাক দারের এ ধরনের মন্তব্য এমন প্রেক্ষাপটে এলো, যখন ভারত-পাকিস্তানের কয়েক দশকের বৈরিতাসহ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র গেল মে মাসে চার দিনের যুদ্ধে জড়ায়, যা তাদের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এর মধ্যে বাংলাদেশে গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন এবং নয়াদিল্লি এখনও তাকে ঢাকায় ফেরত পাঠাতে রাজি হয়নি। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ কি এমন জোট গঠনে রাজি হবে, যেখানে ভারতকে বাদ দেওয়া হবে কিংবা তাদের কর্তৃত্ব সীমিত করে ফেলবে?
ইসহাক দারের এ ধরনের মন্তব্য এমন প্রেক্ষাপটে এলো, যখন ভারত-পাকিস্তানের কয়েক দশকের বৈরিতাসহ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে। পাকিস্তান এমন সময় এ ধরনের জোটের দিকে মনোযোগ দিয়েছে, যখন ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির বিরোধিতায় দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জোট— সার্ক প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
ইসহাক দার বলেছেন, অভিন্ন স্বার্থ আছে, এমন পরিসরে তারা পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চান। অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলকে এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, অর্থনীতি থেকে শুরু করে প্রযুক্তি কিংবা যোগাযোগ স্থাপন— বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ থাকতে পারে।
ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের জাতীয় উন্নয়নের প্রয়োজন ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকারগুলো নির্দিষ্ট কারো কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না এবং থাকা উচিতও নয়। ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যকার উত্তেজনা তুলে ধরে দার বলেন, দুই দেশের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক আলোচনা বন্ধ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নতুন আঞ্চলিক জোটের স্বপ্ন কতটা সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে। কিন্তু একথা নিশ্চিত যে এই জোট গঠনের চেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন মোড় নিয়ে আসবে।
পাকিস্তানের এই উদ্যোগ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে পাকিস্তান এই জোট গঠনের মাধ্যমে তার আঞ্চলিক প



