মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুড়াইছড়া সীমান্তে গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) দুঃখ প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর আইসিপি স্টেশনে দুদেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এ দুঃখ প্রকাশ করে। বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সীমান্ত এলাকায় গরু চরাতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে সুখীরাম উরাং নামের এক চা শ্রমিক নিহত হন। নিহত সুখীরাম উপজেলার মুরইছড়া চা-বাগান বস্তি এলাকার দাসনু উরাংয়ের ছেলে।
দুপুরে চাতলাপুর চেকপোস্টে পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া এবং ভারতের পক্ষে ১৯৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এক্টিং কমান্ডেন্ট ভাঘাত দর্শন সাহা নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাকারিয়া বলেন, সীমান্ত এলাকায় গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএসএফ। সেইসঙ্গে এটি অনিচ্ছাকৃত এবং আত্মরক্ষার্থে গুলি বলে দাবি করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীটি।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশিরা যাতে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিএসএফ।
বিজিবির পক্ষে বলা হয়, বাংলাদেশি নাগরিক যদি অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তাহলে তাকে আটক করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া দুদেশের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখাতে সীমান্ত এলাকায় সৃষ্ট যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা একে অপরের সহযোগিতা ও যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করতে সম্মত হয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ।
মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে চা শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় জনগণ।



