রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া ভারতকে ‘অব্যাহত’ জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত। এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
পুতিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কেন ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে।
পুতিনের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইউক্রেনের সাথে এক শান্তি চুক্তি করার জন্য আলোচনা করছে। পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের এক শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে ইউক্রেনকে অবশ্যই দোনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, অন্যথায় রাশিয়া সেই অঞ্চল দখল করবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, ভারত ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ নয় এবং শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধি করা ভারতের জন্য এক বড় অগ্রাধিকার।
সাম্প্রতিক সময়ে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক এক নিম্নতর পর্যায়ে পৌঁছেছে, কারণ দুই দেশ রাশিয়ান তেল কেনার বিষয়ে এক মতে পৌঁছাতে পারেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করেছে, যা ভারত অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে মনে করে।
পুতিন জানিয়েছেন, ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার অধিকার থাকা উচিত, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কেনে। রাশিয়া এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী।
পুতিনের এই ঘোষণা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘোষণা ভারতকে রাশিয়ার সাথে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ দেবে, যা ভারতের জন্য এক বড় সুবিধা হতে পারে।
ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুতিনের এই ঘোষণা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।



