গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় একটি মাদ্রাসা ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসা শিক্ষিকার সহযোগিতায় সুপারের কাছে ধর্ষণের শিকার হয়ে লোক-লজ্জার ভয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন ওই কিশোরী।
এ ঘটনায় বুধবার বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী মাদ্রাসা সুপারকে আটক করে পিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মুকসুদপুর থানার পরিদর্শক শীতল চন্দ্র পাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার বামনডাঙ্গা গ্রামের আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার সুপার ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম। তিনি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদ শিকদারের ছেলে।
মারা যাওয়া ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার পঞ্চম জামাতের ছাত্রী ছিল। এ ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান শিকদার ও মাদ্রাসার শিক্ষিকা খাদিজা বেগমকে আসামি করে মুকসুদপুর থানায় বুধবার রাতে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, গত ২৬ নভেম্বর বিকালে মাদ্রাসা ছুটির পর সুপার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আমার মেয়েকে তার রুম ঝাড়ু দিতে বলে। পরে খাদিজা ম্যাডামের সহযোগিতায় তাকে ওই কক্ষেই ধর্ষণ করে।
আমার মেয়েটি বিষয়টি গোপন রাখলেও বাড়িতে মন খারাপ করে বসে থাকত। ঘটনার ৮ দিন পর বুধবার সকালে বিষয়টি আমাকে ও তার বাবাকে জানায়।
এ সময় অন্যদের জানালে আত্মহত্যা করবে বলে হুমকিও দেয়। কিন্তু পরে বাড়ির অন্যরা বিষয়টি জানার পর আমার মেয়ে অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।
সন্তান হারা এই মা বলেন, আমি বুকের ধন হারিয়েছি। আমি মেয়ের ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।
ওই শিক্ষার্থীর বোন জামাই বলেন, মাদ্রাসার খাদিজা ম্যাডাম সুপারকে এ কাজে সহযোগিতা করেন এবং ধর্ষণের পর খাদিজা ম্যাডাম বিষয়টি প্রকাশ করলে আমার শ্যালিকাকে জীবননাশের হুমকি দেন। এছাড়া সুপারকে বিয়ে করার কথা বলে। এসব কারণে ভয়ে মেয়েটি ধর্ষণের কথা চেপে রাখে।
মুকসুদপুর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত শীতল চন্দ্র পাল বলেন, খবর পেয়ে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া লাশটি উদ্ধার করা হয়। সুরাতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মোরগ পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



