তাইওয়ান সরকার চীনা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ রেডনোট বা শিয়াওহংশুকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি অনলাইন শপিং স্ক্যামের উদ্বেগের কারণে নেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে যে গত বছর থেকে অ্যাপটিতে ১,৭০০টিরও বেশি প্রতারণার মামলা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ছিল ২৪৭ মিলিয়ন নতুন তাইওয়ান ডলার।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাইওয়ানের প্রায় তিন মিলিয়ন ব্যবহারকারী অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কবে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রেডনোট একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ যা ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকের মতো। এতে অনলাইন শপিংয়ের সুবিধা রয়েছে। অ্যাপটির ব্যবহারকারীরা এখানে পণ্য কিনতে পারেন এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন।
তাইওয়ান সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কারণ হিসেবে বলেছে যে অ্যাপটি ডেটা সিকিউরিটি মান পূরণ করতে পারেনি। এর ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
রেডনোটের অপারেটররা তাইওয়ানে কোনো অফিস নেই। তারা এখনও পর্যন্ত তাইওয়ান নিয়ন্ত্রকদের অনুরোধে সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা জমা দেননি।
রেডনোট ২০১৩ সালে চালু হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী এর শত শত মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ায় এটি খুব জনপ্রিয়। এই বছর অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে কারণ মার্কিন সরকার টিকটককে নিষিদ্ধ করার হুমকি দেওয়ার পর অনেকে এই অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করেছে।
তাইওয়ান সরকারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে সেই সময়ে যখন চীন সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে চীনের প্রতি অনুকূল মতামত তৈরি করার এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর উদ্বেগ বাড়ছে। চীন তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে যা শেষ পর্যন্ত চীনের নিয়ন্ত্রণে আসবে। চীন এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তি প্রয়োগ করার সম্ভাবনাকেও বাদ দেয়নি।
রেডনোট চীনা নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকেও চাপের মুখোমুখি হয়েছে। চীনা নিয়ন্ত্রকরা সেপ্টেম্বর মাসে জানিয়েছে যে তারা অ্যাপটিতে নেতিবাচক পোস্টের জন্য অ্যাপটির বসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি করেছে।
রাশিয়াও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং প্রতারণার উদ্বেগের কারণে স্ন্যাপচ্যাট নামক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ করেছে।
তাইওয়ানের এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোর জন্য একটি সতর্কতামূলক ইঙ্গিত। এটি দেখায় যে সরকারগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়ে সচেতন।
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোকে তাদের ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার জন্য আরও সচেতন হতে হবে। অন্যথায়, তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে পারে।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোর জন্য একটি সতর্কতামূলক ইঙ্গিত। এটি দেখায় যে সরকারগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং নিরাপত্তা ও গোপন



