বাংলাদেশের কর্পোরেট বিশ্বে একটি নতুন ধরনের লুটপাট চলছে। এখানে চোররা প্রথমে লুটপাট করে, তারপর কোনো নোট না রেখে চলে যায় এবং তারপর নীতি অনিশ্চয়তার জন্য অভিযোগ করে। কেউ কেউ সম্পূর্ণ ব্যাংক ছিনিয়ে নেয়, জমাদারদের টাকা তাদের ব্যক্তিগত ভান্ডারে পরিণত করে। অন্যরা একটি পরিষ্কার, ভদ্র ধরনের চুরি করে, যেখানে সবকিছু সই করা, স্ট্যাম্প করা এবং নিখুঁত ইংরেজিতে সমর্থিত। এই আধুনিক চোরদের মুখোশ দরকার নেই। একটি বৈশ্বিক সংস্থার মূল্যায়ন প্রতিবেদন যেকোনো মুখোশের চেয়ে বেশি কার্যকর।
এখানে একটি জাদু খেলা আছে। একটি কোম্পানি বাংলাদেশে তার সাম্রাজ্য গড়ে তোলে, স্থানীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে, স্থানীয় ভোক্তাদের সেবা করে এবং জাতীয় সম্পদের সুবিধা নেয়। তারপর এক সকালে, এটি একটি ব্যবসায়িক পুনর্গঠন ঘোষণা করে, যার অর্থ মালিকানা শান্তভাবে কোথাও উষ্ণ ও কর-বান্ধব স্থানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। রাতারাতি, কোম্পানিটি সিঙ্গাপুর, মরিশাস বা দুবাই-ভিত্তিক হয়ে ওঠে। এই কোম্পানি স্থানান্তরের অস্ত্র হল কম মূল্যায়ন। একটি বড় সংস্থা একটি প্রতিবেদন জারি করে যা পুরো অপারেশনকে এত কম দামে মূল্যায়ন করে যে এমনকি একটি ছোট কোণার দোকানও এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
একটি কাল্পনিক উদাহরণ বিবেচনা করা যাক যা অস্বস্তিকরভাবে বাস্তব বলে মনে হয়। একটি কোম্পানি নিজেকে $20 মিলিয়নে মূল্যায়ন করে এবং সম্পূর্ণরূপে অনুমোদিত ও সম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার 70% শেয়ার বিদেশে স্থানান্তর করে। এখন একই কোম্পানি সেই শেয়ারগুলি $500 মিলিয়নের মূল্যায়নে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পার্থক্য হল $480 মিলিয়ন মূল্য যা বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে কিন্তু এখন সুবিধাজনকভাবে দেশ ছেড়েছে। দেশটি মুনাফা কর, বিদেশী মুদ্রা, জাতীয় সম্পদ হারায় এবং শুধুমাত্র একটি চমৎকার মূল্যায়ন প্রতিবেদন পায় যা আইনি লুটপাটকে ন্যায্যতা দেয়।
আরেকটি উদাহরণে, শেয়ার বা সম্পদ নেট বুক মান (NBV) এ স্থানান্তরিত হয়, যা ছিল তুচ্ছ, বৈশ্বিকভাবে গৃহীত মূল্যায়নের নিয়ম যেমন EBITDA উপেক্ষা করে। এই ধরনের অনৈতিক অনুশীলন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে এই ধরনের কর্পোরেট লুটপাট রোধ করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে, বাংলাদেশের কোম্পানিগুলিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। সরকারকে কর্পোরেট সেক্টরে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অনৈতিক অনুশীলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধুমাত্র তখনই আমরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে পারি।



