বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন দল আবির্ভূত হয়েছে, যার নাম জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই দলটি দেশের দীর্ঘদিনের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গঠিত হয়েছে। এনসিপির লক্ষ্য হলো দেশকে স্বজনপ্রীতি ও দুই দলের আধিপত্য থেকে মুক্ত করা।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের সংগঠন দুর্বল, কারণ এটিকে গড়ে তোলার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সময় নেই।’ তিনি গত বছরের মারাত্মক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনে সংক্ষিপ্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এনসিপি আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের আগে গভীর নেটওয়ার্ক ও বিপুল সম্পদসম্পন্ন প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হচ্ছে। জনমত জরিপ অনুসারে, এনসিপি মাত্র ৬% সমর্থন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে – প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে অনেক পিছিয়ে, যারা ৩০% ভোট নিয়ে এগিয়ে রয়েছে।
বিক্ষোভে থাকা ২৫ বছর বয়সী প্রাপ্তি তাপসী দুটি প্রভাবশালী দলের দশকের পর দশক ধরে চালা শাসন ভেঙে ফেলতে নতুনদের দিকে তাকিয়েছিলেন। কিন্তু অবশেষে তিনি হতাশ হন। তিনি বলেন, ‘যখন তারা প্রথম অভিযান শুরু করে, তখন আমিও তাদের মধ্যে আশার আলো দেখতে পাই, সবার মতো।’
নারীবাদী কর্মী তাপসী বলেন, ‘তারা বলে যে, তারা মধ্যপন্থী- কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড এর সঙ্গে মেলে না। তারা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অবস্থান নিতে দ্বিধা করে, তা সে সংখ্যালঘু অধিকার হোক বা নারী অধিকার। কিন্তু যখন তারা তা করে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।’
এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব বা পরবর্তী ধাপ নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন দল আবির্ভূত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশকে স্বজনপ্রীতি ও দুই দলের আধিপত্য থেকে মুক্ত করা।



