বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। তাঁর বয়স ৮০ বছর। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি জটিলতাসহ বহু দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রয়েছে তাঁর।
গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি চোখ খুলেছেন এবং সাড়া দিচ্ছেন। তবে বিপদমুক্ত নন। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা করছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদল ঢাকায় এসে খালেদা জিয়ার অবস্থা মূল্যায়ন করেছে এবং উন্নত চিকিৎসা পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল্যায়নে বোঝা যায়, তাঁর চিকিৎসায় স্থানীয় সক্ষমতার অতিরিক্ত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে।
মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত সুবিধা বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে নেই। তাই তাকে লন্ডনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আগে গত মে মাসে তিনি লন্ডন ক্লিনিকে ১৭ দিন উন্নত চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন।
আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসক জানান, সামান্য উন্নতি হলেও চিকিৎসা ঝুঁকি রয়ে গেছে। তাই উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কাতারের আমিরের সহায়তায় রয়্যাল কাতার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে দোহায় যাত্রাবিরতির পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যাবেন। এর মধ্যে আছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, এক পারিবারিক চিকিৎসক এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের ব্রিটিশ চিকিৎসক। লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে হাসপাতাল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার দেশব্যাপী তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাঁর গুরুত্ব তুলে ধরে।
বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডন ব্রিজ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো তাঁর প্রধান আন্তর্জাতিক চিকিৎসকের সম্পৃক্ততা। এ ছাড়া হাসপাতালটির একটি ভালো খ্যাতি রয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সবাইকে দোয়া করতে বলা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে তিনি শীঘ্রই সুস্থ হয়ে উঠবেন।



