22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাধানগরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়

রাধানগরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়

সিলেট-তামাবিল সড়কটি ভৌগোলিক কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটি বাংলাদেশের সিলেট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভৈরব হয়ে ঢাকা পর্যন্ত চলে যায়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানি বাহিনী এই সড়কটি দখলের পরিকল্পনা করে। ভারতীয় সেনা আসার পথ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিচরণ ঠেকাতে পাকিস্তানি বাহিনী সড়কের পাশের রাধানগর গ্রামে ক্যাম্প বসায়।

পাকিস্তানি বাহিনীর রাধানগর ক্যাম্পে এক হাজারের বেশি সেনা ছিল। সিলেট শহরে থাকা সেনাদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল এখানে। স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী আশপাশের গ্রামে অত্যাচার-নিপীড়ন, ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালায়।

মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর অভিযান শুরু করে। তিন দিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে অবরুদ্ধ করে। পালিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে দক্ষিণে গোয়াইনঘাটের অংশটি শুধু খোলা রাখে। উভয় পক্ষে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে।

পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করার বিষয়টি প্রভাবকের মতো কাজ করেছে। এ থেকে প্রেরণা পেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। প্রবল উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন দেশকে শত্রুমুক্ত করতে। যুদ্ধ করে একের পর এক অঞ্চল মুক্ত করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর রাধানগর ক্যাম্প পুরোপুরি ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন। ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর মধ্যরাতে মুক্তিযোদ্ধারা রাধানগর ক্যাম্প নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। এই যুদ্ধের কথা লেখা আছে দিব্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত লে. কর্নেল (অব.) এস আই এম নূরুন্নবী খান বীর বিক্রমের অপারেশন রাধানগর বইয়ে।

নূরুন্নবী খান তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ‘দখলদার বাহিনী পুরো রাধানগর এলাকাটিকে একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করে ফেলে।’ রাধানগরে তাদের অবস্থান সুসংহত করার পাশাপাশি উক্ত এলাকার লুনি, দুয়ারীখেল, গোরা, শিমুলতলা, ছাত্তার গাঁ, ভিত্রিখেল, বাউরবাগ, বাউরবাগ হাওর, হোঁয়াওয়া গ্রামসহ এক বিস্তৃত এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এসব এলাকায় বর্বর বাহিনী ঘরবাড়ি জ্বালানো, নারী ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ নানাবিধ বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে।

মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করে। এই বিজয় মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তারা দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য আরও বেশি সংগ্রাম করে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রাধানগর যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে। এই বিজয় মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য আরও বেশি সংগ্রাম করতে উদ্বুদ্ধ করে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments