চট্টগ্রামের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর চুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি রিট পিটিশনের ওপর আজ হাইকোর্টের একটি দ্বিধাবিভক্ত রায় দেওয়া হয়েছে।
দুই বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারক বিচারপতি ফাতেমা নাজিব সরকারি সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তটি প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতি লঙ্ঘন করে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, জুনিয়র বিচারক বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট পিটিশনটি খারিজ করেছেন। তিনি বলেছেন, রিট পিটিশনকারীরা এই সিদ্ধান্তের দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নন এবং তারা কোনো নিরাপত্তা হুমকির প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
এখন বেঞ্চটি রিট পিটিশন সহ দ্বিধাবিভক্ত রায়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ এই নথিগুলি পাওয়ার পর অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চকে এই রিট পিটিশন শোনার এবং নিষ্পত্তি করার জন্য নিয়োগ করবেন।
এই রায়ের পর সরকার এনসিটি এর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর চুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারে। তবে, রিট পিটিশনকারীদের আইনজীবীরা বলেছেন, রিট পিটিশনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর চুক্তি দিতে পারবে না।
বাংলাদেশ জুবো অর্থনীতি বিদ ফোরাম নামক একটি দাতব্য সংস্থা এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেছিল। একটি উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি এর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর চুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করার জন্য সরকারকে বলার জন্য আদালতে একটি রুল জারি করা হয়েছিল।
এই রুলের শুনানি সম্প্রতি শেষ হয়েছে এবং আজ রায় দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের ফলে সরকারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটি দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিষয়ে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায়টি সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। তারা বলছেন, এই রায়ের ফলে সরকারকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
এই রায়ের পর সরকার ও রিট পিটিশনকারীদের মধ্যে আইনি লড়াই চলতে পারে। এই লড়াইয়ের ফলাফল দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



