বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন মেহেরপুর সদরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের এক আমবাগানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার ঘোষণা করা হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতারা কলকাতা থেকে ৫০-৬০টি গাড়িতে করে এখানে আসেন। শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বৈদ্যনাথতলা সংগ্রাম কমিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে সমস্ত প্রস্তুতি শেষ হয়। গ্রামের বাসিন্দাদের সহায়তায় খোলা মাঠের এক কোণে একটি ছোট সভামঞ্চ তৈরি করা হয়। সকাল ৯টার মধ্যে অতিথিরা আসতে শুরু করেন এবং বেলা ১১টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্যরা, এম এ জি ওসমানী এবং আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের তৎকালীন হুইপ আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ঘোষণা করেন, ‘সমবেত সাংবাদিক বন্ধুগণ এবং উপস্থিত জনসাধারণ, আপনাদের সামনে আমার মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রীকে সর্বপ্রথমে উপস্থিত করছি। জনাব তাজউদ্দীন আহমদ।’
এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামানের নাম ঘোষণা করা হয়। মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে এম এ জি ওসমানীর নাম ঘোষণা করা হয়। গণপরিষদের স্পিকার ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এই ঘোষণাপত্রটি লিখেছিলেন এম আমীর-উল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই স্থানের নাম ‘মুজিবনগর’ ঘোষণা করেন। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারকে ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে ইতিহাসে পরিচিতি লাভ করে। অনুষ্ঠানের পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগ্রাম আরও বেগবান হয়। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।



