ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যা পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের নড়াচড়া থেকে সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর বাইরের শক্ত স্তর, যাকে ভূত্বক বলা হয়, অনেকগুলো বড়-ছোট টেকটোনিক প্লেটে ভাগ করা। এগুলো সবসময় খুব ধীরে ধীরে নড়ে, কখনো কাছাকাছি আসে, কখনো দূরে সরে যায়, আবার কখনো পাশাপাশি ঘষা খায়। এই নড়াচড়া থেকেই ভূমিকম্প হয়।
পৃথিবীপৃষ্ঠের নিচে যে স্থান থেকে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়, সেটিকে বলা হয় হাইপোসেন্টার বা ভূমিকম্পের কেন্দ্র। ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক ওপরে থাকা স্থানটিকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র বলা হয়। অনেক সময় বড় ধরনের ভূমিকম্পের আগে ফোরশক বা পূর্বাভাস কম্পন হয়।
পৃথিবীর চারটি প্রধান স্তর রয়েছে। অন্তঃস্থ কেন্দ্র, বহিস্থ কেন্দ্র, ম্যান্টল ও ভূত্বক। ভূত্বক ও ম্যান্টলের ওপরের অংশ পৃথিবীর পৃষ্ঠে একটি পাতলা স্তর তৈরি করে। এই স্তর একক কোনো খণ্ড নয়। ভূমিকম্পের সময় পৃথিবী কাঁপে কেন? চ্যুতির কিনারা আটকে থাকার সময় ও বাকি ব্লক নড়তে থাকার সময় শক্তি সঞ্চিত হতে থাকে।
যখন চলন্ত ব্লকের বল চ্যুতির রুক্ষ কিনারার ঘর্ষণকে অতিক্রম করে ও তা আলাদা হয়ে যায়, তখন সেই সঞ্চিত শক্তি মুক্ত হয়। সেই শক্তি ভূমিকম্প তরঙ্গ আকারে পুকুরের ঢেউয়ের মতো চ্যুতির কেন্দ্র থেকে সবদিকে বিকিরণ করে। ভূমিকম্পের তরঙ্গ পৃথিবীর মধ্য দিয়ে চলার সময় পৃথিবীকে কাঁপায় এবং যখন তরঙ্গ পৃথিবীপৃষ্ঠে পৌঁছায়, তখন তারা মাটি ও এর ওপর থাকা সবকিছু যেমন আমাদের ঘরবাড়ি কাঁপিয়ে দেয়।
ভূমিকম্প সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এই যন্ত্র যে রেকর্ড তৈরি করে, তাকে সিসমোগ্রাম বলে। সিসমোগ্রাফের একটি ভিত্তি রয়েছে, যা মাটিতে শক্তভাবে স্থাপন করা হয় এবং একটি ভারী ওজন মুক্তভাবে ঝুলে থাকে। যখন একটি ভূমিকম্পের কারণে মাটি কাঁপে, সিসমোগ্রাফের ভিত্তিও কাঁপে, কিন্তু ঝুলে থাকা ওজন কাঁপে না।
কীভাবে ভূমিকম্পের পরিধি পরিমাপ করেন বিজ্ঞানীরা? একটি ভূমিকম্পের আকার নির্ভর করে চ্যুতির আকার ও চ্যুতির ওপর পিছলে যাওয়ার পরিমাণের ওপর। বিভিন্ন চ্যুতি পৃথিবীপৃষ্ঠের নিচে অনেক কিলোমিটার গভীরে থাকায় বিজ্ঞানীরা কেবল একটি মাপার ফিতা দিয়ে পরিমাপ করতে পারেন না।
ভূমিকম্প প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে থাকা, ভবন ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করা, এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা আমাদের সকলের দায়িত্ব। ভূমিকম্প সম্পর্কে আরও জেনে রাখলে আমরা নিরাপদ থাকতে পারি এবং এই প্রাকৃতিক বিপদের প্রভাব কমাতে পারি।
ভূমিকম্প সম্পর্কে আরও জানতে চাইলে আপনি কী করবেন? আপনি কি ভূমিকম্প প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে আরও তথ্য চান?



