ডিসেম্বর মাস বিশ্বজুড়ে মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। কম্বোডিয়ার ইতিহাসেও এই মাসটি বিশেষ তাঁত্পর্যপূর্ণ। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় খেমার রুজের শাসন চলে। এই সময়টি কম্বোডিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়।
খেমার রুজের চরমপন্থী মতাদর্শে শহরগুলো খালি করে দেওয়া হয়, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, এমনকি চশমা পরিহিত সাধারণ মানুষকেও হত্যা করা হয়। ধারণা করা হয়, এই গণহত্যায় দেশটির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারায়, যা ইতিহাসে ‘কিলিং ফিল্ডস’ নামে কুখ্যাত।
১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কম্বোডিয়ার জনগণ আর প্রতিবেশী ভিয়েতনাম এই বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ডিসেম্বরের শুরুতেই গঠিত হয় ‘স্যালভেশন ফ্রন্ট’। ২৫ ডিসেম্বর ভিয়েতনামি বাহিনী ও কম্বোডিয়ার মুক্তিপাগল জনতা একযোগে খেমার রুজের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে।
এই অভিযানের ফলেই মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে, ১৯৭৯ সালের ৭ জানুয়ারি, রাজধানী নম পেন মুক্ত হয়। কম্বোডিয়ার মানুষ ফিরে পায় তাদের হারানো নিশ্বাস। আজ আধুনিক কম্বোডিয়া সেই দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে অনেক দূর এগিয়েছে।
কম্বোডিয়ার এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শোষকের ক্ষমতা যত নিষ্ঠুরই হোক না কেন, জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধের কাছে তা টিকতে পারে না। বাংলাদেশের বিজয়ের মাসের মতোই কম্বোডিয়ার জনগণের কাছে ডিসেম্বর মাসটি মুক্তির দামামা বাজার মাস, যা তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের সূচনা করেছিল।
কম্বোডিয়ার মুক্তির ইতিহাস আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ যেকোনো অত্যাচারী শক্তিকে পরাজিত করতে পারে। আজকের কম্বোডিয়া তাদের কষ্টের দিনগুলোকে স্মরণ করে, কিন্তু সেই সাথে তারা তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করেছে।
কম্বোডিয়ার মুক্তির ইতিহাস আমাদেরকে আশা দেয় যে, যেকোনো দেশ বা জাতি তাদের সংগ্রাম ও ঐক্যের মাধ্যমে তাদের মুক্তি অর্জন করতে পারে। কম্বোডিয়ার মুক্তির ইতিহাস হলো একটি অনুপ্রেরণার উৎস, যা আমাদেরকে সংগ্রাম করার ও মুক্তি অর্জনের জন্য অনুপ্রাণিত করে।



