বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও ব্যবসায়িক আস্থা দুর্বল, বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে, ব্যাংকিং খাত রয়ে গেছে ভঙ্গুর অবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অনেকগুলো কারণের ওপর নির্ভর করতে হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের নভেম্বর মাসের ইকোনমিক আপডেট পর্যালোচনা করলে এমন চিত্রই ধরা পড়ে। ইকোনমিক আপডেটে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক গতি ফিরে আসা আগামী নির্বাচনের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন যদি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে এবং এর পাশাপাশি আগামী সরকার যদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যায়, বিশেষ করে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি ও রাজস্ব খাতের স্থিতিশীলতা যদি রক্ষা করতে পারে, তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতি আবারও পুনরুদ্ধার হতে পারে।
গত অক্টোবর মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কের ঘরে নেমে আসে – ৮.১৭ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের ১০.৮৭ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম। ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবৃদ্ধি কয়েক মাস ধরে শক্ত অবস্থানে থাকলেও ব্যক্তি খাতের ঋণপ্রবাহ স্থবির। আগস্টে বছরের সর্বোচ্চ ১০.০২ শতাংশ আমানত প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও সেপ্টেম্বরের হার কমে ৯.৯৮ শতাংশে আসে, যা এখনো স্থিতি নির্দেশ করে।
রাজস্ব সংগ্রহের চিত্রও উদ্বেগজনক। অক্টোবর ২০২৫-এ এনবিআর তিন উৎস থেকে সংগ্রহ করেছে ২৮ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা, যা মাসিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আট হাজার ৩২৪ কোটি টাকা কম। এডিপি বাস্তবায়নেও ধীরগতি স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাস্তবায়ন বেড়ে ৮.৩৩ শতাংশে পৌঁছালেও বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে এই প্রবৃদ্ধিকে প্রকৃত উন্নতি বলা যাচ্ছে না; বরং প্রকল্প শুরুর বিলম্ব, তহবিল ছাড়ে জটিলতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার দুর্বলতা আগের মতোই বহাল রয়েছে।
বহির্বাণিজ্যে মিশ্র প্রবণতা থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়। তবে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা এবং সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই অর্থনৈতিক গতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারকে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি ও রাজস্ব খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এবং এডিপি বাস্তবায়ন গতিশীল করা প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অর্জন করা সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সবার সমন্বয় প্রয়োজন। সরকার, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, এবং সাধারণ মানুষ – সকলেরই ভূমিকা রয়েছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে। সকলের সমন্বয়ে এবং সঠিক কৌশল অবলম্বন করেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অর্জ



