দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার প্রাক্তন কমিশনার এবং প্রাক্তন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা অনুমোদন করেছে। এই মামলাটি দেশের আন্তর্জাতিক আগমন কল হার এবং রাজস্ব ভাগ কমানোর কারণে দেশটির টাকা ৯,০১০ কোটি ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে কমিশনের সদর দপ্তর মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। এটি দুদকের ইতিহাসে প্রথমবার একজন কমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা অনুমোদন করা হয়েছে।
অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ আহসান হাবিব খান, প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডাঃ শাহজাহান মাহমুদ, প্রাক্তন বিটিআরসি কমিশনার মোঃ রেজাউল কাদের এবং মোঃ আমিনুল হাসান।
মামলার বিবৃতি অনুসারে, ২০১৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিটিআরসি সরকারের অনুমোদন ছাড়াই আন্তর্জাতিক আগমন কল হার কমিয়ে ০.০৩০ ডলার থেকে ০.০১৫ ডলারে নামিয়ে আনে। এতে সরকারের রাজস্ব ভাগ ৫১.৭৫ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে কমে যায়, যখন আইজিডব্লিউ অপারেটরদের শেয়ার ১৩.২৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে বেড়ে যায়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজস্ব ভাগ কমানোর কারণে টাকা ৩৮৩.৭৩ কোটি ক্ষতি হয়, কম কল হারের কারণে টাকা ২,৯৪১.৯৯ কোটি ক্ষতি হয় এবং বিদেশি মুদ্রার ঘাটতি টাকা ৫,৬৮৫ কোটি।
অভিযুক্তরা দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ধারা ৫(২), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ধারা ৪০৯/৪১৮ এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ধারা ৪(২) ও ৪(৩) এর অধীনে অভিযুক্ত।
মোঃ জহুরুল হক ২০২১ সালের ১০ই মার্চ দুদকে কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০২৪ সালের ৩০শে অক্টোবর পদত্যাগ করেন।
এই মামলার পরবর্তী আদালতের পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আমরা সংবেদনশীল বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছি।



