সরকারের প্রস্তাবিত নীতি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই নীতি পরিবর্তনের ফলে পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি করা যাবে নিঃশুল্ক ভাবে।
বর্তমানে, রপ্তানিকারকরা তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ৫০ শতাংশ নিঃশুল্ক ভাবে আমদানি করতে পারে। এই ব্যবস্থায়, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কাপড়, সামগ্রী এবং অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে, যখন স্থানীয় উদ্যোক্তারা শুধুমাত্র পোশাক তৈরি করার জন্য অর্থ পান।
এই নীতি পরিবর্তনের লক্ষ্য হল খরচ কমানো এবং উচ্চমানের রপ্তানি উত্সাহিত করা, তবে এটি বাংলাদেশের দেশীয় পোশাক এবং সামগ্রী শিল্পকে ক্ষতি করতে পারে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শোকত আজিজ রাসেল বলেছেন, নিঃশুল্ক আমদানি নীতি পরিবর্তন করলে প্রাথমিক পোশাক শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় কল-কারখানাগুলি ইতিমধ্যেই গ্যাসের অভাবের সমস্যার সম্মুখীন এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করতে পারছে না। নিঃশুল্ক আমদানি অনুমতি দিলে স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত কাঁচামালের চাহিদা আরও কমে যাবে, যা পোশাক শিল্পকে সমর্থন করে এমন সরবরাহ শৃঙ্খলকে দুর্বল করে দিতে পারে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেছেন, টাকা ৪০,০০০ কোটির প্যাকেজিং এবং সামগ্রী শিল্প নীতি পরিবর্তনের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে, রপ্তানিকারকরা বলছেন, নিঃশুল্ক আমদানি সহজ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং দ্রুত। নিঃশুল্ক আমদানির উপর কোনো কোটা না থাকলে, তারা বিশ্বাস করেন যে বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডগুলি বাংলাদেশে আরও বেশি অর্ডার দেবে, কারণ দেশটির দক্ষ শ্রমিক রয়েছে।
এই নীতি পরিবর্তনের ফলে পোশাক শিল্পের উপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারকে এই নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানাচ্ছেন শিল্পপতিরা।
পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য সরকারকে সমর্থন করা উচিত। তবে, এই নীতি পরিবর্তনের ফলে শিল্পটির উপর কী প্রভাব পড়বে তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।



