ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক পররাষ্ট্র প্রধান ফ্রেডেরিকা মোগেরিনিকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস (ইপিপিও) এই অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল অপব্যবহারের একটি তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
ইপিপিও জানিয়েছে, বেলজিয়ামের ব্রুজেসে অবস্থিত কলেজ অফ ইউরোপ এবং ব্রাসেলসে অবস্থিত ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) এর অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এই তল্লাশি চালানোর সময় ফ্রেডেরিকা মোগেরিনির সাথে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন কলেজ অফ ইউরোপের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।
ইপিপিও বলেছে, এই তদন্তের সাথে জুনিয়র কূটনীতিকদের জন্য ইইউ-ভিত্তিক প্রশিক্ষণের সাথে জড়িত। তারা আরও বলেছে, এই তদন্তের সাথে ক্রয় জালিয়াতি, দুর্নীতি, স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং পেশাগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ জড়িত। তিনজনকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ তারা পলাতক হওয়ার ঝুঁকি নেই।
বেলজিয়ামের আইন অনুসারে, কাউকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে, কিন্তু তাকে অভিযুক্ত না করেই ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে, যদি সে পলাতক হওয়ার ঝুঁকি না থাকে। ইপিপিও বলেছে, এই তদন্তের সাথে একটি টেন্ডার জড়িত, যা ইইএএস ২০২১-২০২২ সালে কলেজ অফ ইউরোপকে দিয়েছিল। তারা আরও বলেছে, এই টেন্ডারের সাথে পক্ষপাতিত্বের শক্তিশালী সন্দেহ রয়েছে।
কলেজ অফ ইউরোপ হল একটি স্বাধীন বিদ্যালয়, যা ইইউর ভবিষ্যত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়। এটি ইইউর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আংশিকভাবে ইইউ দ্বারা অর্থায়ন করা হয়।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি ইইউর রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে, অন্যরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ছোট ঘটনা। তবে, একটি বিষয় নিশ্চিত, এই ঘটনাটি ইইউর রাজনৈতিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।



