গাজা অঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের একটি নতুন গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই গণকবরে যারা মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন, তাদের মৃতদেহ বুলডোজার দিয়ে বালি চাপা দেওয়া হয়েছে।
জিকিম সীমান্তের আশপাশে গুলিবর্ষণে নিহতদের মরদেহ অনেক ক্ষেত্রেই মিলিটারি জোনে ফেলে রাখা হয়। অনেক সময় বুলডোজার চালিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়, আর অনেক মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায় খোলা জায়গায় পচে-গলে পড়ে থাকে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃতদেহ এভাবে পরিচালনা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, মৃতদেহ বিকৃত করা বা অসম্মানজনকভাবে কবরস্থ করা যুদ্ধাপরাধ।
জুনের মাঝামাঝি এক ঘটনায় একটি ত্রাণ ট্রাক ঘিরে ধরেন ক্ষুধার্ত মানুষজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তখনই আইডিএফ গুলি চালায় এবং বহু মানুষ ট্রাকের নিচে পড়ে মারা যান। কয়েক দিন পর সিভিল ডিফেন্সের অ্যাম্বুলেন্স গিয়ে ১৫টি লাশ উদ্ধার করে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মৃতদেহ সরানোর জন্য বুলডোজার ব্যবহার করেনি। তবে তা দিয়ে কবর দেওয়া হয়েছিল কি না সে প্রশ্নের উত্তর তারা এড়িয়ে গেছে।
আইডিএফ বলেছে, এলাকা সুরক্ষা, বিস্ফোরকের ঝুঁকি মোকাবিলা কিংবা রুটিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য বুলডোজার ব্যবহৃত হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বিশেষজ্ঞ জানিনা ডিল বলেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর দায়িত্ব নিহতদের এমনভাবে কবর দেওয়া যাতে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়।
সাবেক দুই আইডিএফ সদস্য জানিয়েছেন, গাজার অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তারা বর্ণনা করেছেন কীভাবে যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের মৃতদেহ অগভীর কবরস্থানে বুলডোজার দিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
গাজা অঞ্চলে এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।
জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, মৃতদেহ বিকৃত করা বা অসম্মানজনকভাবে কবরস্থ করা যুদ্ধাপরাধ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই ঘটনাগুলোর তদন্ত করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা।
গাজা অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা প্রয়োজন।



