দেশজুড়ে আমন ধানের কাটাই শুরু হয়েছে। এই সময় কৃষকরা ধানের দাম কমে যাওয়ার কারণে হতাশ। গত বছরের তুলনায় এই বছর ধানের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমে গেছে।
দেশের ১৩টিরও বেশি জেলায় ধানের দাম কমে গেছে। এর ফলে অনেক কৃষক খরচ জোগাতে পারছেন না। ব্যবসায়ী ও চাল আমদানিকারকরা বলছেন, অতিরিক্ত চাল আমদানি করার কারণে ধানের দাম কমে গেছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পুহুরামপুর গ্রামের এক কৃষক বলেছেন, তিনি এই বছর নয় বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তার মোট খরচ ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। তিনি ১৭০ মন ধান কাটার পর ৫০ মন ধান ১৩০০ টাকা দিয়ে বিক্রি করেছেন। বর্তমানে একই ধান ১১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি তিনি এই দামে বিক্রি করেন, তাহলে তার লোকসান হবে।
বগুড়ার রাজাশ গ্রামের এক কৃষক বলেছেন, গত বছর স্বর্ণা ধানের দাম ছিল ১৩৮০ টাকা। এই বছর একই ধান ১১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, কৃষকরা যখন ধান বিক্রি করেন, তখন দাম কম থাকে। কিন্তু মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা যখন ধান কিনেন, তখন দাম বেড়ে যায়।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার পশ্চিম পালশা গ্রামের এক কৃষক বলেছেন, যদি তিনি বর্তমান দামে ধান বিক্রি করেন, তাহলে তার লোকসান হবে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা প্রতি বিঘা। কারণ কীটনাশক ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
এই বছর দেশে ৫৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর ৩ লাখ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। নভেম্বরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশের ৫৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
কৃষকরা ধানের দাম কমে যাওয়ার কারণে হতাশ। তারা সরকারের কাছে ধানের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। সরকারকে কৃষকদের সাহায্য করতে হবে। অন্যথায়, কৃষকরা আর ধান চাষ করতে পারবেন না।
ধানের দাম কমে যাওয়ার কারণে কৃষকরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, দেশের কৃষি খাত সংকটে পড়বে।



