আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জেড আই খান পান্না। তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন।
বুধবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে ক্ষমা চান তিনি। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জেড আই খান পান্না শেখ হাসিনার মামলায় যুক্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
গত ২৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে জেড আই খান পান্নাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
জেড আই খান পান্না জানান, রাষ্ট্র তাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিলেও তিনি তখনও সেই সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি হাতে পাননি। চিঠি হাতে পেলেই তিনি আনুষ্ঠানিক উপায়ে পদত্যাগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
শেখ হাসিনার আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেও, জেড আই খান পান্না অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনি সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
তিনি নিশ্চিত করেছেন, সম্প্রতি তার বন্ধু অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে যে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় তিনি তার পক্ষে লড়বেন।
এ ছাড়া এদিন ট্রাইব্যুনালের বিচার ও বিচারক সংশ্লিষ্ট ১৮টি লিংক ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে সরানো হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আইনজীবী।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে, অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক সংঘাতের সমাধানের দিকে পরিচালিত করবে।
এই ঘটনার পর আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এটি আইনি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলবে। তারা মনে করছেন যে এই ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়ায় আরও বেশি সময় লাগবে।
এই ঘটনার পর সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আরও বেশি উত্তেজনা সৃষ্টি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে সবাই অপেক্ষায় রয়েছে।



