সম্প্রতি অন্তবর্তীকালীন সরকারের একটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করার বিষয়ে। এই সিদ্ধান্তটি অনেক দিক থেকেই উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি শিক্ষার গুণমানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা ছাত্রদের মননশক্তি বাড়াতে, তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করতে এবং তাদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কুয়েতে, সঙ্গীত শিক্ষা প্রায় সব বিদ্যালয়েই বাধ্যতামূলক। ১৯৫৮ সালে কুয়েত সরকার সঙ্গীত শিক্ষা তত্ত্বাবধায়ক অফিস প্রতিষ্ঠা করে এবং একটি আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত পাঠ্যক্রম চালু করে। তুরস্কেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সঙ্গীত শিক্ষা বাধ্যতামূলক। ২০০৭ সালে তুরস্ক সরকার তাদের প্রাথমিক সঙ্গীত পাঠ্যক্রম সংস্কার করে ছাত্রদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করে।
বাংলাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি শিক্ষার গুণমানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই সিদ্ধান্তটি ছাত্রদের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে। এছাড়াও, এই সিদ্ধান্তটি সামাজিক অসমতা সৃষ্টি করবে, কারণ অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি করে।
সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা ছাত্রদের মননশক্তি বাড়াতে, তাদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করতে এবং তাদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগ করা উচিত। আমরা সবাই একসাথে কাজ করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ভালো করতে পারি।
আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার গুরুত্ব কতটা? আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করুন।



