যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরা তাদের নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে অনেক সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের অভিবাসন ও মানবাধিকার আইনে বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া মানে আশ্রয়দাতা দেশে নিরাপত্তাহীনতা থেকে সুরক্ষা পাওয়া। তাই আইএলআর তথা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পরেও নিজ দেশে ফিরে গেলে যুক্তরাজ্য সরকার কর্তৃপক্ষ তথা হোম অফিস ধারণা করতে পারে যে নিজ দেশে ওই ব্যক্তির আর কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক–এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এর পর থেকে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন। তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। তবে তিনি কোন প্রক্রিয়ায় ফিরবেন, সেটা জানা যায়নি।
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তি তাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী বা ইচ্ছেমতো নিজ দেশে ফিরতে পারেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এই বিষয়ে ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন, নিজ দেশে ভ্রমণই আশ্রয়দাবির বিরোধী।
সাধারণ অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (আইএলআর) পাওয়ার পর অন্য দেশে যাওয়া এবং আবার ফিরে আসার আইনগত অধিকার থাকে। তবে যুক্তরাজ্যের বাইরে টানা দুই বছরের বেশি অবস্থান করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইএলআর বাতিল হতে পারে।
তখন আবার আসতে চাইলে পুনরায় ভিসা (রিটার্নিং রেসিডেন্ট) লাগে। তবে আশ্রয়প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে এটা আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করে বলে জানান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।
বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি কোন প্রক্রিয়ায় ফিরবেন, সেটা জানা যায়নি।
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরা তাদের নিজ দেশে ফেরার বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। কারণ, নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের আশ্রয়ের মর্যাদা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এই বিষয়ে আরও জানতে হলে অভিবাসন ও মানবাধিকার আইনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।



