বিশ্বব্যাপী একটি নতুন সরবরাহ শৃঙ্খল সংকট দেখা দিয়েছে আই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের কারণে। এই সংকটের ফলে আই এবং ভোক্তা ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলি কময় সরবরাহের জন্য লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে দামও বেড়ে যাচ্ছে।
জাপানের ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলি ইতিমধ্যেই হার্ড-ডিস্ক ড্রাইভ কেনার সংখ্যা সীমিত করে দিয়েছে। চীনা স্মার্টফোন নির্মাতারা দাম বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। মাইক্রোসফ্ট, গুগল এবং বাইটড্যান্সের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা মাইক্রন, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্সের মতো মেমরি-চিপ নির্মাতাদের কাছ থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করছে।
এই সংকট প্রায় সব ধরনের মেমরির ক্ষেত্রেই দেখা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ইউএসবি ড্রাইভ এবং স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ফ্ল্যাশ চিপ এবং ডেটা সেন্টারে আই চিপগুলিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহৃত উন্নত হাই-ব্যান্ডউইথ মেমরি। কিছু সেগমেন্টে দাম ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে, যা ট্রেন্ডফোর্স নামক বাজার গবেষণা সংস্থার তথ্য মতে।
এই সংকটের প্রভাব প্রযুক্তি জগতের বাইরেও পড়তে পারে। অনেক অর্থনীতিবিদ এবং নির্বাহী সতর্ক করছেন যে এই দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি আই-ভিত্তিক উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি ধীর করে দিতে পারে এবং শত শত বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল অবকাঠামোকে বিলম্বিত করতে পারে। এটি মুদ্রাস্ফীতির চাপও বাড়াতে পারে, যখন অনেক অর্থনীতি মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে।
গ্রেহাউন্ড রিসার্চ নামক একটি প্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থার সিইও সঞ্চিত ভির গোগিয়া বলেছেন, মেমরির ঘাটতি এখন একটি উপাদান-স্তরের উদ্বেগ থেকে একটি ম্যাক্রোইকোনমিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। আই নির্মাণ একটি সরবরাহ শৃঙ্খলের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে যা এর শারীরিক প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারে না।
এই সংকটের ফলে প্রযুক্তি জগতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। কোম্পানিগুলি এই সংকট মোকাবেলার জন্য নতুন কৌশল অবলম্বন করতে বাধ্য হবে। এটি নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে পারে।
এই সংকট মোকাবেলার জন্য সরকার এবং শিল্প নেতাদের একসাথে কাজ করতে হবে। তাদের নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এটি করার মাধ্যমে, তারা এই সংকট মোকাবেলা করতে পারবে এবং প্রযুক্তি জগতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারবে।



