কোরাইল এলাকার একটি সংকীর্ণ গলিতে শফিকুল ইসলাম এবং ফাতেমা বেগম ভোরের আগেই চা তৈরি করতে শুরু করেন। তাদের ছোট স্টলটি বৌবাজার এলাকায় রাত পর্যন্ত চলে, কিন্তু গত সপ্তাহের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এটি এখন শুধুমাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করে, যা আগের তুলনায় অর্ধেক।
গত ২৫শে নভেম্বরের অগ্নিকাণ্ডে কোরাইলের প্রায় ১৫০০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়েছে। শফিকুল ইসলাম, যিনি চার সন্তানের জনক, জানিয়েছেন যে তিনি একসময় একটি ছোট দোকান চালাতেন যেখানে তিনি চা, সিগারেট এবং খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার দোকানটি আমাদের খরচ চালাতে সক্ষম ছিল এবং কখনও কখনও একটু অতিরিক্ত আয় হতো।’ তিনি সাত বছর ধরে এই ব্যবসায় ২.৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।
কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য, তাকে তার বোনের কাছ থেকে অর্থ ধার করতে হয়েছিল যাতে তিনি আবার তার স্টল চালু করতে পারেন। শফিকুল ইসলাম এখন তার চা স্টলে বসে আছেন, যেখানে তিনি অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আবার চা বিক্রি শুরু করেছেন। গতকাল বিকেলে, তিনি এবং তার স্ত্রী দুটি ছোট টেবিলে চা পরিবেশন করছিলেন, নতুন কেটলি, কাপ এবং চামচ ব্যবহার করে। তাদের স্টলে এখন শুধুমাত্র কয়েকটি জিনিস আছে: সিগারেট, রুটি এবং বিস্কুট। ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন যে তিনি তার মামাতো বোনের কাছ থেকে ৩৮,০০০ টাকা ধার করেছেন যাতে তিনি আবার সবকিছু কিনতে পারেন।
অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পরেও, কোরাইল এলাকায় জীবন স্বাভাবিক হয়নি। শফিকুল এবং ফাতেমার মতো অনেক কোরাইলবাসী এখনও তাদের জীবন পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছেন এবং অগ্নিকাণ্ডের আগের মতো জীবনযাপন করার চেষ্টা করছেন। অনেক বাসিন্দা শহর ছেড়ে চলে গেছেন,
কোরাইল এলাকার বাসিন্দারা এখনও অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই এলাকার বাসিন্দাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সাহায্য করা। এটি একটি মানবিক বিপর্যয়, এবং আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করে এই মানুষগুলিকে সাহায্য করা উচিত।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে, কোরাইল এলাকার বাসিন্দারা অনেক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তাদের ঘরবাড়ি, সম্পত্তি সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। তারা এখন শেল্টারহীন, খাদ্যহীন এবং চিকিৎসাহীন। এটি একটি মানবিক সংকট, এবং আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করে এই মানুষগুলিকে সাহায্য করা উচিত।
সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত কোরাইল এলাকার বাসিন্দাদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সাহায্য করা। তাদের উচিত খাদ্য, চিকিৎসা এবং শেল্টার সরবরাহ করা। তাদের উচিত এই এলাকার পুনর্বাসনে সাহায্য করা। আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করে এই মানুষগুলিকে সাহায্য করা উচিত।



